

প্রশান্ত নীলের পরিচালনায় জুন ২০২৭-এ মুক্তি পেতে চলা প্যান-ইন্ডিয়া চলচ্চিত্র 'ড্রাগন'-এ এনটিআর জুনিয়র ও শহীদ কাপুরের মতো তারকারা অভিনয় করেছেন। ১৯৬৭ সালের পটভূমিতে আফগান ও গোল্ডেন ট্রেডিং কোম্পানির আন্তর্জাতিক আফিম ব্যবসা ঘিরে আবর্তিত হয়েছে এর শ্বাসরুদ্ধকর কাহিনীর প্রেক্ষাপট।
সিনেমার সংক্ষিপ্ত তথ্য
- পরিচালক
- Prashanth Neel
- অভিনয়ে
- N.T. Rama Rao Jr., Shahid Kapoor, Rukmini Vasanth, Alia Bhatt, Ashutosh Rana, Anil Kapoor, Biju Menon, Guru Somasundaram
- ধরন
- অ্যাকশন, ক্রাইম, ড্রামা
- ভাষা
- তেলেগু
- মুক্তির সময়
- 2027-06-10
গল্পের প্রেক্ষাপট ও আন্তর্জাতিক মাদকের চোরাচালান
আসন্ন আলোচিত তেলুগু চলচ্চিত্র 'ড্রাগন' তার গল্পের পটভূমির কারণে মুক্তির আগেই সিনেমা প্রেমীদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা তৈরি করেছে। ১৯৬৭ সালের একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও অন্ধকার সময়কে কেন্দ্র করে এই চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য সাজানো হয়েছে। সেকালে আন্তর্জাতিক বাজারে আফিম ও অন্যান্য মাদকের চোরাচালান কীভাবে বৈশ্বিক রাজনীতি এবং অপরাধ জগতের চালিকাশক্তি ছিল, তা এই ছবির মূল প্রতিপাদ্য হিসেবে উঠে আসবে।
আফগান ট্রেডিং কোম্পানি এবং রহস্যময় গোল্ডেন ট্রেডিং কোম্পানির কার্যক্রম এবং তাদের আন্তর্জাতিক সিন্ডিকেটকে কেন্দ্র করে ছবির মূল দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে। তৎকালীন সময়ের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, অপরাধচক্রের অভ্যন্তরীন দ্বন্দ্ব এবং ক্ষমতার লোভ কীভাবে সাধারণ মানুষের জীবনকে গ্রাস করত, তার এক বাস্তবসম্মত ও ভিজ্যুয়াল রূপায়ন পর্দায় ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করছেন নির্মাতা। এই ঐতিহাসিক ও অপরাধমূলক আবহে চরিত্রগুলোর মধ্যকার মনস্তাত্ত্বিক লড়াই দর্শকদের সিট থেকে উঠতে দেবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
ষাট দশকের সেই উত্তাল সময়কে নিখুঁতভাবে পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে পরিচালক প্রশান্ত নীল এবং তার গবেষণা দল দীর্ঘ সময় ব্যয় করেছেন। সেকালের পোশাক, অস্ত্রের ব্যবহার, গাড়ি এবং অপরাধ জগতের গোপন আস্তানাগুলোর চিত্রায়ন দর্শকদের সরাসরি ১৯৬৭ সালের টাইম মেশিনে নিয়ে যাবে। অপরাধ ও নাটকের সংমিশ্রণে গড়া এই গল্পটি কেবল একটি সাধারণ অ্যাকশন ছবি নয়, বরং ক্ষমতার লোভে অন্ধ এক অন্ধকার জগতের গভীর দলিল।
পরিচালক প্রশান্ত নীলের সুদূরপ্রসারী নির্মাণ শৈলী
ভারতীয় সিনেমার বর্তমান প্রজন্মের অন্যতম সফল ও প্রভাবশালী নির্মাতা প্রশান্ত নীল। 'কেজিএফ' এবং 'সালার'-এর মতো মাস্টারপিস উপহার দেওয়ার পর, 'ড্রাগন' ছবির মাধ্যমে তিনি তার নির্মাণের মুন্সিয়ানা আরও এক ধাপ উঁচুতে নিয়ে যেতে চলেছেন। তার গাঢ় রঙের প্যালেট, হাই-অক্টেন স্লো-মোশন শট এবং মেগা-স্কেল সেট ডিজাইন এই সিনেমাতেও একটি অনন্য ভিজ্যুয়াল ভাষা তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রশান্ত নীলের পরিচালনায় প্রতিটি চরিত্রই যেন পর্দায় এক একটি জীবন্ত বিস্ফোরণ। তিনি কেবল নায়কের মারপিট দেখাতেই বিশ্বাস করেন না, বরং চরিত্রের পেছনে একটি শক্তিশালী ব্যাকস্টোরি বা অতীত ইতিহাস তৈরি করেন যা দর্শকের মনে দাগ কাটে। 'ড্রাগন' সিনেমার ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হচ্ছে না; ১৯৬৭ সালের সময়কালকে জীবন্ত করে তুলতে তিনি বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় টেকনিশিয়ান এবং অ্যাকশন কোরিওগ্রাফারদের একত্রিত করেছেন।
নির্মাণের এই বিশাল আয়োজন এবং প্রি-প্রোডাকশনের নিখুঁত কাজ প্রমাণ করে যে প্রশান্ত নীল কেবল দক্ষিণী সিনেমার গণ্ডি ছাড়িয়ে সম্পূর্ণ ভারতীয় ও বৈশ্বিক দর্শকের কথা মাথায় রেখে এগোচ্ছেন। ছবির প্রতিটি ফ্রেমে মেকিংয়ের যে আভিজাত্য এবং গল্পের যে গভীরতা থাকবে, তা ভারতীয় চলচ্চিত্রের মানকে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেবে বলেই চলচ্চিত্র সমালোচকদের বিশ্বাস। বিশাল ক্যানভাসে এই অপরাধ জগতের গল্প বলাটা প্রশান্ত নীলের মুকুটে নতুন এক ফলক যোগ করতে পারে।
তারকাবহুল কাস্ট: এনটিআর জুনিয়র ও শহীদ কাপুরের দ্বৈরথ
'ড্রাগন' সিনেমার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এর ভারতীয় চলচ্চিত্রের সর্বকালের সেরা কিছু তারকার সমাহার। তেলুগু সিনেমার গোর্লিয়াস সুপারস্টার এনটিআর জুনিয়র এই ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করছেন, যার অভিনয় দক্ষতা ও মাস ইমেজ ইতিমধ্যে বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। তার সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করতে চলেছেন বলিউডের অন্যতম ভার্সেটাইল ও জনপ্রিয় অভিনেতা শহীদ কাপুর, যা এই ছবিটিকে এক প্যান-ইন্ডিয়া অনন্য মাত্রা দিয়েছে।
প্রধান দুই পুরুষ অভিনেতার পাশাপাশি ছবিটিতে রয়েছে তারার মেলা। দক্ষিণের গুণী অভিনেত্রী রুক্মিণী বসন্ত এবং বলিউডের মেধাবী অভিনেত্রী আলিয়া ভাট এই সিনেমার নারী চরিত্রগুলোতে গভীরতা আনবেন বলে জানা যাচ্ছে। এছাড়াও খলনায়ক বা গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করছেন বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা আশুতোষ রানা, অনিল কাপুর, এবং দক্ষিণের শক্তিমান অভিনেতা বিজু মেনন ও গুরু সোমসুন্দরাম।
এতগুলো শক্তিশালী অভিনেতাকে একই ফ্রেমে আনা এবং তাদের প্রত্যেকের জন্য উপযুক্ত স্ক্রিনস্পেস নিশ্চিত করা সহজ কাজ নয়। তবে প্রশান্ত নীলের কাস্টিং ডিরেকশন বরাবরই নিখুঁত হওয়ায়, আশা করা যায় প্রতিটি চরিত্রই তাদের অভিনয় দিয়ে পর্দায় আগুন ঝরাবেন। এনটিআর জুনিয়রের র ফুড ও মাস অ্যাকশনের সঙ্গে শহীদ কাপুরের ইনটেন্স অভিনয়শৈলীর এই সংমিশ্রণ দর্শকদের জন্য এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা হতে চলেছে।
মুক্তির তারিখ এবং প্রি-রিলিজ হাইপ
চলচ্চিত্রপ্রেমীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২০২৭ সালের ১০ জুন 'ড্রাগন' সিনেমাটি বিশ্বব্যাপী মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। গ্রীষ্মকালীন ছুটির মরসুম এবং পরবর্তী উইকএন্ডের ফায়দা তুলতে নির্মাতারা এই বিশেষ দিনটিকে বেছে নিয়েছেন। মুক্তির তারিখ ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয়েছে ভক্তদের উন্মাদনা এবং ট্রেডিং ট্রেন্ড।
থিয়েট্রিক্যাল মুক্তির পাশাপাশি ছবিটির ডিজিটাল এবং স্যাটেলাইট স্বত্ব ইতিমধ্যেই রেকর্ড মূল্যে বিক্রি হওয়ার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। ভারতের বিভিন্ন প্রধান ভাষা যেমন তেলুগু, হিন্দি, তামিল, কন্নড় ও মালায়ালম ভাষায় একযোগে মুক্তি পাবে এই মেগা প্রজেক্ট। আন্তর্জাতিক বাজারেও সিনেমাটি মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা চলছে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যেখানে ভারতীয় ছবির বাজার ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে।
মুক্তির আগে ছবির ট্রেলার, টিজার এবং গানগুলো একে একে প্রকাশ পেলে হাইপ যে আকাশচুম্বী হবে তা বলাই বাহুল্য। প্রেক্ষাগৃহে ছবিটি দেখার জন্য অগ্রিম বুকিংয়েও রেকর্ড ভাঙার সম্ভাবনা দেখছেন বক্স অফিস বিশেষজ্ঞরা। দর্শকের এই প্রবল আগ্রহ প্রমাণ করে যে 'ড্রাগন' কেবল একটি সিনেমা নয়, বরং এটি হতে চলেছে ২০২৭ সালের অন্যতম বৃহত্তম সিনে-উৎসব।
কেন দেখবেন 'ড্রাগন'? দর্শকদের জন্য প্রত্যাশার পারদ
চলতি দশকের অন্যতম প্রতীক্ষিত চলচ্চিত্র হিসেবে 'ড্রাগন' দেখার পক্ষে একাধিক জোরালো কারণ রয়েছে। প্রথমত, প্রশান্ত নীল মানেই বক্স অফিসে ঝড়ের পূর্বাভাস এবং তার সঙ্গে ১৯৬৭ সালের মাদক চোরাচালানের মতো রোমাঞ্চকর পটভূমি গল্পটিকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। যারা ডার্ক, গ্রিটি এবং র অ্যাকশন ঘরানার সিনেমা পছন্দ করেন, তাদের জন্য এটি একটি মাস্ট-ওয়াচ ছবি।
দ্বিতীয়ত, এনটিআর জুনিয়র এবং শহীদ কাপুরের অনস্ক্রিন কোল্যাবোরেশন বা মুখোমুখি অভিনয় দেখার সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইবেন না কোনো সিনেমাপ্রেমী। দুই ভিন্ন ইন্ডাস্ট্রির দুই সুপারস্টার যখন একে অপরের বিরুদ্ধে বা পাশাপাশি দাঁড়াবেন, তখন স্ক্রিনে যে স্ফুলিঙ্গ তৈরি হবে তা দেখার মতো ব্যাপার হবে। এর সঙ্গে আলিয়া ভাট ও অনিল কাপুরের উপস্থিতি ছবিটির ড্রামাটিক গুরুত্ব বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
সর্বোপরি, ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক, সিনেমাটোগ্রাফি এবং প্রোডাকশন ডিজাইন আন্তর্জাতিক মানের হতে চলেছে। রবি বসরুরের মতো সুরকার যদি এই ছবির দায়িত্বে থাকেন, তবে মিউজিক্যাল স্কোর যে থিয়েটারের ছাদ উড়িয়ে দেবে তা নিশ্চিত। সব মিলিয়ে, একটি পরিপূর্ণ এন্টারটেইনার হিসেবে 'ড্রাগন' দর্শকদের সমস্ত প্রত্যাশা পূরণ করতে পুরোপুরি প্রস্তুত।
বক্স অফিস সম্ভাবনা ও ঐতিহাসিক রেকর্ডের হাতছানি
বাণিজ্যিক বিশ্লেষকদের মতে, 'ড্রাগন' সিনেমাটি বক্স অফিসে সর্বকালের বেশ কিছু রেকর্ড ভেঙে দিতে পারে। প্রশান্ত নীলের আগের ছবিগুলোর আকাশচুম্বী ব্যবসায়িক সাফল্য এবং এনটিআর জুনিয়রের আন্তর্জাতিক জনপ্রিয়তা ছবিটিকে প্রথম দিন থেকেই বিশ্বজুড়ে হাজার কোটি টাকার ক্লাবের দিকে ঠেলে দিতে পারে। বিশেষ করে উত্তর ও দক্ষিণ ভারতের যৌথ বাজার ধরতে এই ছবিটি অত্যন্ত সফল হবে।
ওভারসিজ বা বিদেশের বাজারেও এনটিআর এবং শহীদ কাপুরের ফ্যানবেস অত্যন্ত শক্তিশালী। আমেরিকা, ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যের বক্স অফিসে ছবিটি একটি বিশাল ওপেনিং পেতে চলেছে। আন্তর্জাতিক আফিম ব্যবসার গ্লোবাল প্রেক্ষাপট থাকায় বিদেশি দর্শকরাও এই গল্পের সঙ্গে সহজে নিজেদের মেলাতে পারবেন, যা গ্লোবাল বক্স অফিসে ছবির আয় বাড়াতে সাহায্য করবে।
মুক্তির দিন কোনো বড় প্রতিদ্বন্দী ছবি না থাকায় 'ড্রাগন' এককভাবে বক্স অফিস শাসন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। থিয়েট্রিক্যাল রান দীর্ঘস্থায়ী হলে এবং মুখের প্রচার বা পজিটিভ ওয়ার্ড অব মাউথ পেলে ছবিটি সর্বকালের সর্বাধিক আয়কারী ভারতীয় চলচ্চিত্রগুলোর তালিকায় শীর্ষস্থানীয় স্থান অধিকার করতে পারে। এখন কেবল সঠিক সময়ে ছবিটি রূপালি পর্দায় আসার অপেক্ষা।
সাধারণ প্রশ্ন
ড্রাগন সিনেমাটি কবে মুক্তি পাবে?
শোনা যাচ্ছে, প্রশান্ত নীল পরিচালিত 'ড্রাগন' সিনেমাটি ২০২৭ সালের ১০ জুন বিশ্বব্যাপী প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে।
ড্রাগন সিনেমায় প্রধান চরিত্রে কারা অভিনয় করছেন?
এই ছবিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করছেন এনটিআর জুনিয়র ও শহীদ কাপুর। এছাড়া আলিয়া ভাট, রুক্মিণী বসন্ত, অনিল কাপুর ও আশুতোষ রানার মতো তারকারাও রয়েছেন।
ড্রাগন সিনেমার অফিশিয়াল ট্রেলার কবে মুক্তি পাবে?
সিনেমার নির্মাতাদের পক্ষ থেকে এখনও ট্রেলারের নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হয়নি, তবে মুক্তির কয়েক সপ্তাহ আগে এটি প্রকাশ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ড্রাগন সিনেমাটি কোন ওটিটি (OTT) প্ল্যাটফর্মে আসবে?
থিয়েট্রিক্যাল মুক্তির অন্তত ৮ সপ্তাহ পর সিনেমাটি কোনো প্রধান ওটিটি প্ল্যাটফর্মে স্ট্রিম করার কথা রয়েছে, তবে প্ল্যাটফর্মের নাম এখনও নিশ্চিত নয়।
ড্রাগন সিনেমার মূল কাহিনী কী নিয়ে?
ছবিটির কাহিনী ১৯৬৭ সালের পটভূমিতে নির্মিত, যেখানে আফগান ট্রেডিং কোম্পানি এবং গোল্ডেন ট্রেডিং কোম্পানির আন্তর্জাতিক আফিম ব্যবসা ও অপরাধ চক্রের গল্প তুলে ধরা হয়েছে।



