

ভারতের অন্যতম আলোচিত এবং চাঞ্চল্যকর অপরাধের মামলা নিয়ে নির্মিত এই চলচ্চিত্রে দেখা যাবে সরকারি আইনজীবী উজ্জ্বল নিকমের আইনি লড়াই। ২০০৮ সালের ২৬/১১ মুম্বাই সন্ত্রাসী হামলার মূল আসামী আজমল কাসাভের বিচার প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব দেওয়ার সময় তাকে যে কঠিন সত্যের মুখোমুখি হতে হয়েছিল এবং ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন সহ্য করতে হয়েছিল, তা নিয়েই এই সিনেমাটি এগিয়েছে।
সিনেমার সংক্ষিপ্ত তথ্য
- পরিচালক
- Avinash Arun
- অভিনয়ে
- Rajkummar Rao, Wamiqa Gabbi, Jaideep Ahlawat, Sikandar Kher, Lalit Prabhakar, Nassar, Ashish Vidhyarthi, Ritwik Sahore
- ধরন
- অপরাধমূলক থ্রিলার, সামাজিক নাটক
- ভাষা
- হিন্দি
- মুক্তির সময়
- 2026-10-16
গল্পের পটভূমি ও মূল ভাবনা
২৬/১১ মুম্বাই হামলার ক্ষত ভারতের ইতিহাসে চিরকাল দগদগে হয়ে থাকবে। এই সন্ত্রাসী হামলার একমাত্র জীবিত হামলাকারী আজমল কাসাভকে বিচারের মুখোমুখি করা এবং আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা ভারতীয় বিচারব্যবস্থার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। 'প্রহার - দ্য আনটোল্ড স্টোরি অফ উজ্জ্বল নিকম' মূলত সেই ঐতিহাসিক আইনি লড়াইয়ের নেপথ্য কাহিনীকে পর্দায় তুলে ধরেছে। সিনেমাটিতে সরকারি আইনজীবী উজ্জ্বল নিকমের চোখ দিয়ে দেখানো হবে কীভাবে একটি দেশ তার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডির পর আইনি প্রক্রিয়ায় বিচার পাওয়ার জন্য লড়াই করেছিল।
গল্পের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে আইনি মারপ্যাঁচ এবং জেরা পর্ব। কাসাভকে বাঁচানোর জন্য বা বিচার প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করার জন্য পর্দার আড়ালে যে খেলাগুলো চলছিল, সেগুলোকে অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে মোকাবিলা করেছিলেন আইনজীবী উজ্জ্বল নিকম। কেবল আদালতেই নয়, এই মামলার কারণে তার ব্যক্তিগত জীবনে এবং পরিবারের ওপর যে পরিমাণ মানসিক ও সুরক্ষাজনিত চাপ তৈরি হয়েছিল, তাও অত্যন্ত সংবেদনশীলভাবে এই চলচ্চিত্রে চিত্রায়িত হয়েছে।
এই সিনেমাটি কেবল একটি আইনি যুদ্ধ নয়, বরং সত্য অনুসন্ধান ও ন্যায়বিচারের প্রতীক। এটি একজন সাধারণ আইনজীবীর অসাধারণ মানসিক শক্তি এবং চরম সংকটের মুখেও কর্তব্যে অবিচল থাকার এক অবিশ্বরণীয় দলিল। দর্শকদের জন্য এটি একই সাথে একটি টানটান থ্রিলার এবং এক চরম আবেগঘন বাস্তব অভিজ্ঞতার মিশ্রণ হতে চলেছে।
অবিনাশ অরুণের পরিচালনা ও নির্মাণ শৈলী
‘কিল্লা’ এবং ‘পাতাল লোক’-এর মতো প্রশংসিত কাজের পর পরিচালক অবিনাশ অরুণ ভারতীয় বিনোদন জগতে একটি অত্যন্ত বিশ্বস্ত নাম হয়ে উঠেছেন। বাস্তবধর্মী গল্প উপস্থাপন এবং চরিত্রগুলোর মানবিক দিকগুলো নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলার ক্ষেত্রে তার জুড়ি মেলা ভার। 'প্রহার'-এর পরিচালনায় তিনি সেই চেনা বাস্তবধর্মী ও তীব্র অনুভূতিপ্রবণ ধারাই বজায় রেখেছেন বলে শোনা যাচ্ছে। এই সিনেমার প্রতিটি আইনি দৃশ্য এবং মুম্বাই হামলার পরবর্তী অস্থির পরিস্থিতি ফুটিয়ে তুলতে তিনি সূক্ষ্ম গবেষণার সাহায্য নিয়েছেন।
সিনেমাটির ভিজ্যুয়াল ভাষা এবং সিনেমাটোগ্রাফিতে অবিনাশ অরুণের নিজস্ব একটি ছাপ রয়েছে। মুম্বাই শহরের সেই বিষাদময় পরিবেশ এবং আদালতের ভেতরের গুরুগম্ভীর আবহ ফুটিয়ে তুলতে বিশেষ লাইটিং ও ক্যামেরার কাজ করা হয়েছে। আদালতের ভেতরের টানটান উত্তেজনা যাতে দর্শকদের সরাসরি স্পর্শ করতে পারে, সেই লক্ষ্যে চিত্রনাট্যটিকে অত্যন্ত প্রখর এবং বাস্তবসম্মত সংলাপে সাজানো হয়েছে।
ছবির প্রোডাকশন ডিজাইন থেকে শুরু করে কস্টিউম এবং আবহ সঙ্গীত—সব কিছুতেই বাস্তবতার ছোঁয়া রাখা হয়েছে। সিনেমাটির অন্যতম লক্ষ্য ছিল দর্শককে কোনো ধরণের অতিনাটকীয়তা ছাড়াই একটি গম্ভীর এবং সত্য ঘটনার মুখোমুখি দাঁড় করানো। অবিনাশ অরুণের সূক্ষ্ম পরিচালনা শৈলী এই গুরুতর বিষয়টিকে সিনেমাটিক রূপ দিয়ে বড় পর্দায় সার্থক করে তুলেছে।
তুখোড় অভিনয়শিল্পীদের মেলবন্ধন ও চরিত্রায়ন
কেন্দ্রীয় চরিত্র অর্থাৎ উজ্জ্বল নিকমের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন বলিউডের অন্যতম ভার্সেটাইল অভিনেতা রাজকুমার রাও। যেকোনো জটিল চরিত্রে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে তার দক্ষতা প্রশংসনীয়। প্রোমোশনাল লুক এবং বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, উজ্জ্বল নিকমের শারীরিক হাবভাব, তার কথা বলার ধরণ এবং চোখের তীব্রতা ফুটিয়ে তুলতে রাজকুমার প্রচুর পরিশ্রম করেছেন। এটি সম্ভবত তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা এবং চ্যালেঞ্জিং কাজ হতে চলেছে।
তার পাশাপাশি সিনেমাটিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখা যাবে ওয়ামিকা গাব্বি এবং জয়দীপ আহলাওয়াতকে। জয়দীপ আহলাওয়াত তার শক্তিশালী অভিনয়ের জন্য ইতিমধ্যে সমাদৃত, এই ছবিতেও তার চরিত্রটি গল্পের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। ওয়ামিকা গাব্বি এই ছবিতে এক নতুন এবং গুরুত্বপূর্ণ মাত্রা যোগ করেছেন। এছাড়াও সিকান্দার খের, ললিত প্রভাকর, এবং দক্ষিণী সিনেমার প্রবীণ অভিনেতা নাসার এবং আশিস বিদ্যার্থীয়ের মতো শক্তিশালী অভিনেতাদের উপস্থিতি সিনেমাটির অভিনয়ের মানকে এক অন্য স্তরে নিয়ে গেছে।
ছবির প্রতিটি চরিত্রই বাস্তব জীবনের কোনো না কোনো বাস্তব চরিত্রের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। বিশেষ করে কাসাভের চরিত্রে কে অভিনয় করছেন এবং ট্রায়াল রুমের দৃশ্যে রাজকুমারের সাথে তার রসায়ন কেমন হবে, তা দেখার জন্য দর্শকেরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। প্রতিটি অভিনেতার পারস্পরিক অভিনয় লড়াই পর্দায় একটি তীব্র নাটকীয়তার জন্ম দেবে, তা বলাই বাহুল্য।
মুক্তির তারিখ ও কোথায় দেখতে পাবেন
'প্রহার - দ্য আনটোল্ড স্টোরি অফ উজ্জ্বল নিকম' বিশ্বব্যাপী প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে চলেছে ২০২৬ সালের ১৬ই অক্টোবর। দীপাবলির এই উৎসবের মরশুমে ছবিটি বড় পর্দায় মুক্তি দিয়ে দর্শকদের কাছে এক বিশেষ বার্তা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন নির্মাতারা। পরিবেশকদের মতে, এই ধরণের গুরুগম্ভীর ও সত্য ঘটনা অবলম্বনে তৈরি সিনেমা উৎসবের মৌসুমেও দর্শকদের বড় সংখ্যায় হলে টানতে সক্ষম হবে।
প্রেক্ষাগৃহে সফলভাবে চলার পর সিনেমাটি কোন ওটিটি (OTT) প্ল্যাটফর্মে আসবে, তা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। তবে শোনা যাচ্ছে, অগ্রণী কোনো ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ইতিমধ্যে সিনেমাটির ডিজিটাল স্বত্ব কিনে নিয়েছে। সিনেমাটি বড় পর্দায় মুক্তির অন্তত আট সপ্তাহ পর দর্শকরা এটি ঘরে বসেই ওটিটি প্ল্যাটফর্মে উপভোগ করতে পারবেন।
আন্তর্জাতিক দর্শকদের জন্য সিনেমাটি ইংরেজি সাবটাইটেল সহ বিশ্বব্যাপী রিলিজ করা হবে। ভারতের বড় শহরগুলোর পাশাপাশি ভারতের বাইরেও যেখানে বড় সংখ্যায় অনাবাসী ভারতীয় দর্শকরা থাকেন, সেখানেও সিনেমাটি বড় আকারে মুক্তি দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
কেন দেখবেন এবং সিনেমাটি নিয়ে মূল প্রত্যাশা
২৬/১১ মুম্বাই হামলার ট্র্যাজেডি সম্পর্কে আমরা অনেকেই জানি, কিন্তু আদালতের ভেতরে কীভাবে এক দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, সেই ইতিহাস অনেকেরই অজানা। 'প্রহার' সেই অজানা সত্য ইতিহাসকে জানতে সাহায্য করবে। একজন আইনজীবীর পেশাদারিত্বের আড়ালের মানুষটিকে জানার কৌতুহল যাদের রয়েছে, তাদের জন্য এই সিনেমাটি একটি অবশ্য দর্শনীয় কাজ।
রাজকুমার রাও এবং জয়দীপ আহলাওয়াতের মতো তুখোড় অভিনেতাদের একসাথে স্ক্রিন শেয়ার করা যেকোনো সিনেমা প্রেমীর জন্য একটি বড় পাওনা। অসাধারণ অভিনয়, টানটান আইনি সংলাপ এবং সত্য ঘটনার আবেগপূর্ণ উপস্থাপনা এই ছবিটিকে সাধারণ বাণিজ্যিক সিনেমা থেকে আলাদা করে তুলেছে। এটি কেবল বিনোদন নয়, ভারতীয় বিচার ব্যবস্থার এক ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
কোনো ধরণের মেলোড্রামা বা ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে দেখানো দেশপ্রেম ছাড়াই কীভাবে একটি বাস্তব ঘটনাকে পর্দায় তুলে ধরা যায়, তার উজ্জ্বল উদাহরণ হতে চলেছে এই ছবি। সুস্থ ধারার সিনেমা এবং বাস্তবসম্মত থ্রিলার যারা পছন্দ করেন, তাদের এই সিনেমাটি হতাশ করবে না।
বক্স অফিস সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
'প্রহার' অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং শক্তিশালী বিষয়বস্তুর ওপর তৈরি থাকায় এর বক্স অফিস সম্ভাবনা মূলত দর্শকদের ইতিবাচক মাউথ পাবলিসিটি বা মুখের কথার ওপর নির্ভর করবে। ছবিটির ট্রেলার রিলিজের পর থেকেই দর্শক এবং সমালোচকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রাথমিক অবস্থায় মাল্টিপ্লেক্সগুলোতে এই ছবির টিকিট বিক্রির হার বেশ ভালো থাকবে বলে ট্রেড অ্যানালিস্টদের ধারণা।
সিনেমাটির মূল লক্ষ্য হয়তো শত কোটি টাকার ক্লাবে ঢোকা নয়, কিন্তু এর গভীর সামাজিক গুরুত্ব এবং শক্তিশালী অভিনয়ের কারণে এটি দীর্ঘ সময় ধরে প্রেক্ষাগৃহে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পারে। বিশেষ করে মেট্রো শহরগুলোতে এবং তরুণ প্রজন্মের দর্শকদের মধ্যে এই সিনেমার প্রতি আগ্রহ বেশি দেখা যাবে। ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তির পরও এটি একটি মাইলফলক সৃষ্টি করতে পারে।
এই ধরণের সিনেমা যদি বক্স অফিসে সফল হয়, তবে বলিউড নির্মাতারা ভবিষ্যতে আরও বাস্তবসম্মত এবং ভারতের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো নিয়ে সিনেমা বানাতে উৎসাহিত হবেন। 'প্রহার' ভারতীয় সিনেমায় আইনি এবং কোর্টরুম ড্রামার ক্ষেত্রে একটি নতুন মানদণ্ড স্থাপন করতে পারে।
সাধারণ প্রশ্ন
'প্রহার' সিনেমাটির মূল বিষয়বস্তু কী?
সিনেমাটি মূলত সরকারি আইনজীবী উজ্জ্বল নিকমের বাস্তব জীবনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যেখানে ২০০৮ সালের ২৬/১১ মুম্বাই সন্ত্রাসী হামলার অন্যতম প্রধান আসামী আজমল কাসাভের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক আইনি লড়াইয়ের রোমহর্ষক কাহিনী তুলে ধরা হয়েছে।
সিনেমাটিতে মূল ভূমিকায় কারা অভিনয় করেছেন?
এই চলচ্চিত্রে আইনজীবী উজ্জ্বল নিকমের কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন রাজকুমার রাও। এছাড়াও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন ওয়ামিকা গাব্বি, জয়দীপ আহলাওয়াত, সিকান্দার খের এবং আশিস বিদ্যার্থী।
'প্রহার' সিনেমাটির পরিচালক কে?
সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন অবিনাশ অরুণ, যিনি এর আগে 'কিল্লা' সিনেমা এবং অত্যন্ত জনপ্রিয় ওয়েব সিরিজ 'পাতাল লোক' পরিচালনার জন্য ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছেন।
সিনেমাটি কবে মুক্তি পাবে?
'প্রহার - দ্য আনটোল্ড স্টোরি অফ উজ্জ্বল নিকম' সিনেমাটি ২০২৬ সালের ১৬ই অক্টোবর বিশ্বব্যাপী প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।
ছবিটি কি কোনো ওটিটি প্ল্যাটফর্মে দেখা যাবে?
হ্যাঁ, প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পর ছবিটির ডিজিটাল স্বত্ব কেনা ওটিটি প্ল্যাটফর্মে এটি স্ট্রিম করা হবে। তবে নির্দিষ্ট ওটিটি প্ল্যাটফর্মের নাম এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি, যা খুব শীঘ্রই জানানো হবে বলে শোনা যাচ্ছে।



