
পুকুরের জলে ডুবে যাওয়া এক মানুষ অন্য এক ভিন্ন মাত্রায় আটকে পড়ে এবং তার চুরি যাওয়া যন্ত্রটি উদ্ধার করতে ও মুছে যাওয়া স্মৃতি ফিরিয়ে আনতে লড়াই শুরু করে। একমাত্র লক্ষ্য—যেভাবেই হোক নিজের বাড়িতে ফিরে যাওয়া। এমডি অনিরুদ্ধ রাহি পরিচালিত এই অভিনয় সমৃদ্ধ সিনেমাটি বাংলা চলচ্চিত্রে এক নতুন মাত্রার যোগ করতে চলেছে।
সিনেমার সংক্ষিপ্ত তথ্য
- পরিচালক
- Md Aniruddho Rahi
- অভিনয়ে
- Md Tawfiq Elahi, Trina Mittra
- ধরন
- সাইন্স ফিকশন, থ্রিলার ও ফ্যান্টাসি
- ভাষা
- বাংলা
- মুক্তির সময়
- 2027-02-01
গল্পের ধারণা ও ভাবনা
বাংলা চলচ্চিত্র জগতে সায়েন্স ফিকশন এবং প্যারালাল ইউনিভার্স বা সমান্তরাল মাত্রার গল্প খুব একটা বেশি দেখা যায় না। কিন্তু পরিচালক এমডি অনিরুদ্ধ রাহি 'রিভার্স মাইসেলফ' সিনেমার মাধ্যমে দর্শকদের এমন এক অচেনা ও রহস্যময় দুনিয়ায় নিয়ে যেতে চলেছেন যা আগে কখনো বড় পর্দায় দেখা যায়নি। সিনেমার মূল প্লট আবর্তিত হয়েছে এক অদ্ভুত ঘটনাকে কেন্দ্র করে, যেখানে গল্পের প্রধান চরিত্র একটি পুকুরের জলে ডুবে যাওয়ার পর হঠাৎ করেই অন্য এক ভিন্ন মাত্রায় বা ডাইমেনশনে আটকা পড়ে যায়। এই অজানা দুনিয়া তার চেনা পৃথিবীর মতো নয়, বরং এখানে পদার্থবিজ্ঞানের পরিচিত নিয়মগুলো পুরোপুরি উল্টে গেছে।
এই ভিন্ন মাত্রায় আটকে পড়ার পর শুরু হয় তার বেঁচে থাকার এবং নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার কঠিন লড়াই। সে আবিষ্কার করে যে তার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান একটি যন্ত্র চুরি করে নিয়ে গেছে তার প্রতিচ্ছবি বা তার ইভিল ভাইব্রেন্স (evil vibrance)। শুধু সেই যন্ত্রটি উদ্ধার করাই নয়, তার প্রধান উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়ায় নিজের মুছে যাওয়া স্মৃতিগুলোকে আবার সচল করা। নিজের স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলা একজন মানুষের জন্য এই অচেনা গ্রহ বা মাত্রায় টিকে থাকা প্রায় অসম্ভব হলেও, তার একটাই লক্ষ্য থাকে—যে কোনো মূল্যে নিজের ঘরে ফিরে যাওয়া।
পরিচালক ও নির্মাণ শৈলী
পরিচালক এমডি অনিরুদ্ধ রাহি বরাবরই একটু ভিন্নধর্মী এবং মেধাভিত্তিক গল্প নিয়ে কাজ করতে পছন্দ করেন। 'রিভার্স মাইসেলফ' সিনেমাটি তার দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা এবং সুদূরপ্রসারী ভাবনার ফসল হিসেবে তৈরি হচ্ছে। সিনেমার চিত্রনাট্য থেকে শুরু করে প্রতিটি দৃশ্য ধারণের ক্ষেত্রে বিশ্বমানের প্রযুক্তি ও ভিজ্যুয়াল ইফেক্টের ব্যবহার করা হচ্ছে, যা বাংলা সিনেমার মানকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা রাখে। একজন দক্ষ নির্মাতা হিসেবে রাহি কীভাবে এই জটিল সায়েন্স ফিকশন আইডিয়াকে পর্দায় রূপায়ন করছেন, তা নিয়ে চলচ্চিত্র সমালোচকদের মাঝেও বেশ কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
সিনেমার নির্মাণশৈলীতে ডার্ক টোন, সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার এবং ভিজ্যুয়াল গ্রাফিক্সের এক দারুণ মিশ্রণ দেখতে পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পুকুরের জলের নিচে ডুবে যাওয়ার দৃশ্য থেকে শুরু করে অন্য মাত্রার অদ্ভুত সব ল্যান্ডস্কেপ ফুটিয়ে তুলতে বিশেষ সিনেমাটোগ্রাফি এবং সাউন্ড ডিজাইন ব্যবহার করা হচ্ছে। নির্মাতারা চেষ্টা করছেন যেন দর্শকরা হলের সিটে বসে শুধু একটি সিনেমা উপভোগ না করেন, বরং প্রধান চরিত্রের সাথে সাথে তারাও যেন ওই রহস্যময় মাত্রার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠেন। প্রতি মুহূর্তের সাসপেন্স এবং রহস্য দর্শকদের মনোযোগ ধরে রাখতে বাধ্য করবে।
অভিনয়শিল্পী ও চরিত্রায়ন
এই উচ্চাভিলাষী প্রজেক্টে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করছেন উদীয়মান ও প্রতিভাবান অভিনেতা মো. তৌফিক এলাহী (Md Tawfiq Elahi)। তার চরিত্রের গভীরতা এবং মানসিক দ্বন্দ্ব ফুটিয়ে তোলার জন্য তাকে বেশ কসরত করতে হয়েছে। অন্য একটি মাত্রায় হারিয়ে যাওয়া এবং নিজের স্মৃতি হারিয়ে ফেলার মতো জটিল একটি মানসিক অবস্থা পর্দায় ফুটিয়ে তোলা যেকোনো অভিনেতার জন্যই একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তৌফিক এলাহী তার নিখুঁত অভিনয় দক্ষতার মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জ সফলভাবে উতরে যাবেন বলে আশা করা হচ্ছে, যা তার অভিনয় জীবনের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স হয়ে থাকতে পারে।
তৌফিক এলাহীর পাশাপাশি এই সিনেমায় একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করছেন ত্রিনা মিত্র (Trina Mittra)। তার চরিত্রটি গল্পের মোড় ঘোরানো এবং প্রধান চরিত্রের লড়াইয়ে বিশেষ ভূমিকা পালন করবে। এছাড়া, গল্পের খলনায়ক বা ইভিল ভাইব্রেন্সের চরিত্রটি এবং অন্যান্য পার্শ্ব চরিত্রগুলোর জন্য বেশ কিছু চমকপ্রদ কাস্টিং রাখা হয়েছে। চরিত্রগুলোর পারস্পরিক রসায়ন এবং তাদের মধ্যে চলা মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব সিনেমার মূল আকর্ষণগুলোর মধ্যে অন্যতম। প্রতিটি শিল্পী তাদের চরিত্রকে ফুটিয়ে তুলতে যথেষ্ট পরিশ্রম করছেন বলে জানা গেছে।
মুক্তির তারিখ ও কোথায় দেখবেন
চলচ্চিত্রপ্রেমীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২০২৭ সালের ১ ফেব্রুয়ারি 'রিভার্স মাইসেলফ' সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। নির্মাতা ও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সিনেমাটি প্রথমে দেশের প্রধান প্রধান মাল্টিপ্লেক্স এবং বড় সিনেমা হলগুলোতে একযোগে মুক্তি দেওয়া হবে। পরবর্তীতে দর্শকদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে দেশের বাইরেও প্রবাসী বাঙালিদের জন্য বিশেষ স্ক্রিনিংয়ের ব্যবস্থা করা হতে পারে। যারা সায়েন্স ফিকশন এবং থ্রিলার ঘরানার ছবি পছন্দ করেন, তাদের জন্য প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে ছবিটি বড় পর্দায় উপভোগ করা একটি দারুণ অভিজ্ঞতা হবে।
প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির নির্দিষ্ট কিছু সময় পর সিনেমাটি কোনো জনপ্রিয় ওভার-দ্য-টপ (OTT) প্ল্যাটফর্মে স্ট্রিম করার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে নির্মাতাদের পক্ষ থেকে ওটিটি রিলিজের তারিখ বা প্ল্যাটফর্মের নাম এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। যেহেতু এটি একটি ভিজ্যুয়ালের দিক থেকে সমৃদ্ধ সিনেমা, তাই বড় পর্দার সাউন্ড সিস্টেম এবং রিলিজের পরেই প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে ছবিটি দেখার পরামর্শ দিচ্ছেন চলচ্চিত্র বিশেষজ্ঞরা। মুক্তির তারিখ ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে এর ট্রেলার এবং পোস্টার রিলিজের মাধ্যমে প্রচারণার কাজ আরও জোরদার করা হবে।
কেন দেখবেন ও দর্শকদের প্রত্যাশা
বর্তমান সময়ে গতানুগতিক প্রেমের বা অ্যাকশন সিনেমার ভিড়ে 'রিভার্স মাইসেলফ' এক সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী স্বাদ নিয়ে হাজির হচ্ছে। আপনি যদি টাইম ট্রাভেল, প্যারালাল ইউনিভার্স, এবং মেন্টাল থ্রিলার ঘরানার গল্প পছন্দ করেন, তবে এই সিনেমাটি আপনার মিস করার কোনো উপায় নেই। গল্পের অভিনবত্ব, অন্য মাত্রার দুনিয়া এবং নিজের অস্তিত্ব রক্ষার এই টানটান লড়াই দর্শকদের সিটের সাথে আটকে রাখতে বাধ্য করবে। বাংলা সিনেমায় সায়েন্স ফিকশন ঘরানার কাজ এমনিতেই কম হয়, তাই এই ধরনের মৌলিক প্রচেষ্টাকে উৎসাহিত করা প্রতিটি বাংলা চলচ্চিত্রপ্রেমীর উচিত।
দর্শকদের প্রত্যাশার পারদ ইতিমধ্যে বেশ উঁচুতে অবস্থান করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং বিভিন্ন চলচ্চিত্র গ্রুপে এই সিনেমার পোস্টার এবং প্রাথমিক ধারণার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন নেটিজেনরা। একটি সাধারণ মানুষের অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে পড়ে যাওয়ার ঘটনা এবং সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প মানুষের মনে গভীর রেখাপাত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। নিখুঁত ভিএফএক্স, শক্তিশালী ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক এবং মেধাভিত্তিক অভিনয়ের এক অপূর্ব সমন্বয় দেখতে পাবেন দর্শকরা, যা দীর্ঘদিন তাদের স্মৃতিতে অমলিন থাকবে।
বক্স অফিস সম্ভাবনা ও বাণিজ্যিক ভবিষ্যৎ
বাংলা চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির বাণিজ্যিক গতিপ্রকৃতিতে এখন এক ধরণের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দর্শকরা এখন আর শুধু গতানুগতিক গল্পের সিনেমা দেখতে চান না, বরং নতুন কিছু বা ভিন্ন স্বাদের কন্টেন্ট তাদের বেশি টানে। সেই হিসেবে 'রিভার্স মাইসেলফ' সিনেমাটির বক্স অফিস সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল। তরুণ প্রজন্ম এবং সায়েন্স ফিকশন প্রেমী দর্শকরা যদি হলমুখী হন, তবে এটি ঢাকাই তথা বাংলা সিনেমার বাজারে একটি নতুন মাইলফলক স্পর্শ করতে পারে। আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে তৈরি হলে এই সিনেমাটি বৈশ্বিক দর্শকের কাছেও পৌঁছানোর সম্ভাবনা রাখে।
অবশ্য বাণিজ্যিক সফলতার বিষয়টি অনেকখানি নির্ভর করছে সিনেমাটির প্রচারণা এবং টার্গেটেড দর্শকের কাছে সঠিক বার্তা পৌঁছানোর ওপর। সঠিক বিপণন কৌশল এবং মাউথ পাবলিসিটির মাধ্যমে যদি সিনেমাটি একবার তার দর্শকশ্রেণি তৈরি করে নিতে পারে, তবে এটি শুধু দেশে নয়, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফিল্মি উৎসবেও সমাদৃত হতে পারে। প্রযোজক ও পরিচালকদের সাহসিকতা এবং এই ধরনের মেগাপ্রজেক্টে বিনিয়োগ বাংলা সিনেমার ভবিষ্যৎকে আরও সুদৃঢ় করবে এবং বক্স অফিসে নতুন আয়ের রেকর্ড গড়তে সহায়তা করবে বলে বিশ্বাস বাণিজ্য বিশ্লেষকদের।
সাধারণ প্রশ্ন
রিভার্স মাইসেলফ সিনেমাটি কবে মুক্তি পাবে?
চলচ্চিত্রটির সম্ভাব্য মুক্তির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৭।
সিনেমার প্রধান অভিনয়শিল্পীরা কারা?
এতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন মো. তৌফিক এলাহী এবং ত্রিনা মিত্র।
এই সিনেমার পরিচালক কে?
সিনেমার কাহিনী ও পরিচালনা করেছেন উদীয়মান নির্মাতা এমডি অনিরুদ্ধ রাহি।
সিনেমাটি কোন কোন ওটিটি প্ল্যাটফর্মে দেখা যাবে?
প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পর ওটিটি প্ল্যাটফর্মের নাম ঘোষণা করা হবে, যা বর্তমানে অপেক্ষমাণ।
সিনেমার মূল গল্প কী নিয়ে আবর্তিত হয়েছে?
পুকুরে ডুবে অন্য মাত্রায় আটকে পড়া এক মানুষ এবং তার চুরি যাওয়া যন্ত্র উদ্ধারের লড়াই নিয়ে এর গল্প।



